রাজীব কুমারকে বাঁচাতে চাইছেন কেন মমতা ব্যানার্জী, সত্যি ফাঁস করলেন রাষ্ট্রবাদী সাংবাদিক সুধীর চৌধুরী । sHARE করুন আপনার বন্ধু ও পরিচিতদের সাথে ।

CBI বনাম মমতা ব্যানার্জীর যে ঘটনা পুরো দেশে রাজনৈতিক উথালপাথাল সৃষ্টি করেছে তা নিয়ে মুখ খুললেন রাষ্ট্রবাদী সাংবাদিক সুধীর চৌধুরী । পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে CBI এর হাত থেকে বাঁচানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী কেন এত প্রয়াস করছেন তার পর্দা ফাঁস করেন সুধীর চৌধুরী ।
সুধীর চৌধুরী বলেন- চিটফান্ড দুর্নীতি কান্ডের কিনারা বের করার জন্য যে SIT গঠন করা হয়েছিল, রাজীব কুমার তার প্রমুখ ছিল । ২০১৩ সালে সারদা ও রোজভ্যালি দুর্নীতি কান্ডের তদন্ত করেছিলেন রাজীব কুমার । কিন্তু ২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট এই দুই মামলা CBI এর হাতে তুলে দেয় । এরপর CBI তদন্ত শুরু করলে একটা বড় অভিযোগ রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে উঠে । অভিযোগে বলা হয় যে রাজীব কুমার তদন্তের সাথে জড়িত অনেক কাগজপত্র, মোবাইল ফোন, পেনড্রাইভ CBI এর হাতে দেয়নি । অর্থাৎ মামলা ট্রান্সফার হওয়ার সময় রাজীব কুমার তদন্তের সাথে জড়িত অনেক প্রমান পত্র CBI এর হাতে তুলে দেয়নি । এই ব্যাপারে CBI রাজীব কুমারকে অনেকবার সামন পাঠানো হয়েছিল কিন্তু রাজীব কুমার CBI এর সামনে হাজির হননি । এই প্রমান রাজীব কুমারের থেকে বের করে আনার জন্য রবিবার সন্ধেয় CBI এর টীম কলকাতায় উনার বাড়ির সামনে উপস্থিত হয়েছিল । কিন্তু মমতা ব্যানার্জী চাননি যে CBI এর হাতে প্রমান চলে যাক বা CBI কোনোভাবে রাজীব কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করুক ।
রাজীব কুমারের বয়স ৫৩ বছর, উনি ১৯৮৯ ব্যাচের IPS অফিসার । IPS এই অর্থ ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস, অর্থাৎ রাজীব কুমার ভারতীয় পুলিশ সেবার জন্য নিযুক্ত রয়েছেন । সুধীর চৌধুরী বলেন রাজীব কুমারের আচরণ দেখে তাকে IPS মনে হয় না, উনি ভারতের সেবা নয় ধর্নায় বসে মমতা ব্যানার্জীর সেবা করতে ব্যাস্ত রয়েছেন ।
এই পুরো ঘটনা মূলত দুটি দুর্নীতি নিয়ে, এক-সারদা চিটফান্ড দুর্নীতি দ্বিতীয়- রোজভ্যালি চিটফান্ড দুর্নীতি। দেশের বেশিরভাগ মিডিয়া বিশেষত বাংলার মিডিয়া এই ঘটনাকে “কেন্দ্র বনাম রাজ্য সংঘাত”, “কলকাতা পুলিশ বনাম CBI” , “মোদী বনাম মমতা” ইত্যাদি বলে রাজনৈতিক রূপ দিয়েছে । কিন্তু এই ঘটনার গভীরতা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোনের অনেক ওপরে । আসলে রাজনীতির আড়ালে মমতা দুর্নীতিগ্রস্থ মানুষদের বাঁচানোর জন্য নেমে পড়েছেন । সমস্ত মিডিয়া বিষয়টিকে মোদী বনাম মমতা বলে রাজনৈতিক করেছে কিন্তু কেউ তাদের কথা বলেছে না যারা দুর্নীতি কান্ডে নিজেদের সবকিছু হারিয়েছেন । সারদা দুর্নীতিতে কিছু ক্ষমতাশালী রাজনেতারা বহু গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষের সারাজীবনের টাকা লুটে নেয় এবং নিজেদের পকেট পূরণ করে । এই দুর্নীতির থেকে লুটে নেওয়া টাকা নিয়ে কোটিপতি হওয়া ছাড়াও বহু মিডিয়া হাউস, বহু চ্যানেল খোলা হয় যারা দ্বারা রাজনৈতিক প্রচারও চালানো হয় । চিটফান্ডের দুর্নীতির সাথে রাজনৈতিক ক্ষমতা থেকে মিডিয়া সমস্থ কিছু জড়িত রয়েছে কারণ এই টাকা দিয়েই অনেক মিডিয়ার মুখ বন্ধ রাখা হয়েছিল । সারদা গ্রূপ দেশের ১৭ লক্ষ মানুষের থেকে কোটি কোটি টাকা প্রতারণা করে লুটেছিল ।
অন্যদিকে রোজভ্যালি দুর্নীতি কাণ্ডেও বহু মানুষকে প্রতারিত হতে হয়েছিল । দুই চিটফান্ড দুর্নীতিতে বহু মানুষের সারা জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে যায়, বহু জন আত্মহত্যা করে । এখন মানুষকে ন্যায় প্রদান করার জন্য এবং দোষীদের সাজা দেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশমতো CBI তদন্ত করলে মমতা ব্যানার্জী তদন্তে বাধা দিতে শুরু করেছে । অন্যদিকে টাকা খেয়ে খবর পরিবেশন করা মিডিয়া এটাকে রাজনৈতিক খবর বলে এড়িয়ে যাচ্ছে ।

আমাদের পেজ ফ্লো করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানায় ।

126total visits.