২০১৯ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে হাত দিতে পারবেন না প্রধান শিক্ষক মহাশয় ।

২০১৮ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন নিয়োম চালু করতে চলেছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ । ময়নাগুড়ির সুভাষনগর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক হরিদয়াল রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল প্রশ্নপত্র ফাঁসের । তিনি পরীক্ষার নির্দিষ্ট সময়ের আগে, অন্যদের উপস্হিতি ছাড়াই নিজের অফিস ঘরে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলেছিলেন । তা নিয়ে তোলপাড় হয় শিক্ষাজগৎ । ২০১৯ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে যাতে হাত দিতে না পারে তার জন্য নতুন নিয়োম চালু করতে চলেছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, এ কথা জানান শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যানময় গঙ্গোপাধ্যায় ।
প্রশ্ন ফাঁসের আশঙ্কা কতটা কমবে সেটা দেখার পালা । এই পদক্ষেপকে প্রধান শিক্ষকদের অপমান বলে মনেকরছেন শিক্ষাজগৎতের একাংশ । এই ধরনের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে শিক্ষকনেতা স্বপন মন্ডল বললেন, “পর্ষদ তো নিজের তৈরি কমিটির উপরেই ভরসা রাখতে পারছেন না” ।
পূর্ব নিয়োম অনুযায়ি, প্রশ্নপত্র আসার পরে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট স্কুলের সুরোক্ষীত রূমে পৌঁছাবে । সেখান থেকে পরীক্ষার নির্ধারিত সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও আধিকারিকদের সামনে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলবেন প্রধান শিক্ষক বা শিক্ষিকা । সেখান থেকে প্রশ্নপত্র পৌঁছায় পরীক্ষার রূমে রূমে । এই নিয়ম পালটে ফেলা হচ্ছে বলে যানান শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যানবাবু আর নতুন নিয়ম হিসাবে জানান “এবার থেকে প্রশ্নপত্র সরাসরি পৌঁছে যাবে পরীক্ষার রূমে রূমে আর সেটা পৌঁছাবে থানা বা ট্রেজারি থেকে ঠিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে । আর সেখানেয় প্যাকেট খুলে দেওয়া হবে প্রশ্নপত্র ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে ।
প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপর আস্থা হারাচ্ছে পর্ষদ বলে অভিযোগ বেশকিছু প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকার । প্রধান শিক্ষক সমিতির রাজ্য সম্পাদক শ্রীদামচন্দ্র জানা বলেন-“স্কুলের প্রধান শিক্ষক হচ্ছে স্কুলের গার্জেন আর আশা করবো ওনাদের বাদদিয়ে এমন কিছু করা হবেনা যেটা প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্মানে বাধে । যদি তেমন হয় তা হলে তাদের অসম্মান করা হবে । যে সকল ছাত্র-ছাত্রীরা পরীক্ষা দেবেন না তাদের প্রশ্নপত্রের কী হবে সেটা পর্ষদের দেখা দরকার ।

87total visits.